বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে চার লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মরত আছেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন দপ্তর, বিদ্যালয় এবং মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আরও অসংখ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী। সব মিলিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার সাথে সরাসরি জড়িত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক। এই বিশাল জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় একটি কর্মজীবী পরিবার বলা যায়।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এত বড় একটি পরিবারকে স্বাস্থ্যসেবার জন্য এখনো কোনো পৃথক হাসপাতাল দেওয়া হয়নি। অথচ শিক্ষকরা আমাদের আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলছেন নিরলসভাবে। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার মানোন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
একজন শিক্ষক যখন অসুস্থ থাকেন, তখন শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনই ব্যাহত হয় না, বরং শত শত শিক্ষার্থীও তার প্রভাবের বাইরে থাকে না। শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য মানেই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ উন্নত করা। সুতরাং শিক্ষকদের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া সময়ের দাবি।
আমাদের দেশের বিভিন্ন সেক্টরের জন্য আলাদা হাসপাতাল বা বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারকে আজও সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে। তাই প্রাথমিক শিক্ষার সাথে জড়িত এই পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের জন্য একটি আধুনিক, পূর্ণাঙ্গ ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী পৃথক হাসপাতাল স্থাপন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
এই হাসপাতাল শুধু চিকিৎসা সেবা দেবে না, বরং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, মাতৃস্বাস্থ্য সেবা, দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ, এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
আমরা বিশ্বাস করি, প্রাথমিক শিক্ষার সাথে জড়িত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা শুধু মানবিক দায়বদ্ধতাই নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। এখনই সময় কর্তৃপক্ষের এই বিষয়ে গুরুত্বসহকারে পদক্ষেপ নেওয়ার। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৫(পিইডিপি৫) এর ডিজাইনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পিইডিপি৫ এ হাসপাতালটি স্থাপনের কার্যক্রমটি সংযুক্ত করা হউক সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

